January 22, 2018 12:25 pm

স্বপ্নভঙ্গ ফেসবুকভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের

‘নিরাপত্তার কারনে’ ফেসবুক বন্ধ রেখেছে সরকার। কিন্তু এতে সামাজিক মিডিয়া নির্ভর ছোট উদ্যোক্তা এবং ফ্রিল্যান্সাররা সমস্যায় পড়েছেন। তাদের অনেকেই বলেছেন, ছোট বিনিয়োগের মাধ্যমে শুরু করা তাদের স্বপ্ন ইতিমধ্যে ভেঙে যেতে শুরু করেছে।
আউটসোর্সিংকে উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়া ফ্রিল্যান্সার সাইদুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা যারা ক্ষুদ্র আকারে আউটসোর্সিংকে উপার্জনের উপায় হিসেবে গ্রহণে করেছিলাম তারা সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সব কাজ আসে ফেসবুকের মাধ্যমে। কিন্তু এখন যেহেতু ফেসবুক ব্লক, আমরা ভেঙে পড়েছি।’ ইসলাম সবশেষে উল্লেখ করেন, তাকে কাজ দেয়া লোকেরা এখন ভারত থেকে কর্মী নিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছে। তিনি দু:খের সঙ্গে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ালো।’

ফেসবুক বন্ধ

সাইদুল জানান, ফেসবুক বন্ধ হয়ে থাকার কারণে কাজ হারানো পাশাপাশি তার মতো ক্ষুদ্র আউটসোর্সিং কর্মীদের প্রায় ১২ লাখ টাকা বকেয়া অনাদায় রয়ে গেল। তিনি আরও বলেন, অনেক ছাত্র আমাদের মাধ্যমে কাজ করত। ফেসবুক তাদের আয়ের উপায় ছিল। ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে সপ্তাহে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা রোজগার করত।

ঠাকুরগাঁয়ের কাপড় ব্যবসায়ী তারেক আলম জানান, তার ক্রেতারা ফেসবুক পেজে পোশাকের ডিজাইন দেখে অর্ডার করত। কিন্তু ফেসবুক বন্ধ হওয়ার দিন থেকে তার অর্ডার আসা বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, অর্ডার নেয়ার জন্য আলাদা ওয়েবসাইট করার মতো আর্থিক সক্ষমতা তার নেই। ‘যে কারনে আমি ফেসবুককে আমার ওয়েবসাইটের মতো ব্যবহার করতাম। ফেসবুক বন্ধুদের কাছ থেকে অর্ডার পেতাম।’

আফসানা সুমি। ‘গুটিপোকা’ নামে একটি বুটিক শপ পরিচালনা করতেন ফেসবুক ব্যবহার করে। ফেসবুক বন্ধ হয়ে যাওয়াতে তিনিও একই সমস্যায় পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘ফেসবুক ব্যবহারকারীরা আমার বুটিক শপের ক্রেতা। এখন যেহেতু ফেসবুক বন্ধ, আমার ব্যবসাও বন্ধ।’

সুমি বলেন, ‘আমাদের পণ্য প্রস্তুত। এমনকি আমরা ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতেও প্রস্তুত। কিন্তু কিভাবে এবং কোথায় দেব, ক্রেতার সন্ধান নেই যে!’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার পক্ষে একটি শো-রুম বা ওয়েবসাইট খোলা সম্ভব নয়। সুমি শংকা প্রকাশ করে বলেন, ক্রেতাদের সঙ্গে তার যে যোগাযোগ তৈরি হয়েছিলো তাও হয়তো তিনি হারিয়ে ফেলবেন।

আরেকটি শপিং পেজ ‘কল্পতরু’র গল্পটিও একই রকম। ফেসবুকে ‘কল্পতরু’ নামে একটি পেইজের মাধ্যমে নিজের ব্যবসা চালাতেন আজিমপুরের আফসানা শর্মি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করা এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘শুধু যে আমার ক্ষতি হচ্ছে বিষয়টি কিন্তু এমন নয়। আমাদের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বেশ কিছু কুরিয়ার সার্ভিসও গড়ে উঠেছে, যারা এই অনলাইন সাইটগুলোকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি ভগ্ন মনে বলেন, ‘যে স্বপ্নটা দেখেছিলাম সেটা ভেস্তে যেতে শুরু করেছে। ফেইসবুক বন্ধ হওয়ায় বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ফেসবুক ভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষতির বিষয়টি মেনে নিয়ে বলেছেন, এসব ঘটনা ব্যথিত করলেও মানুষের জীবনের ঝুঁকি নিতে পারছে না সরকার। তিনি বলেন, ‘অনেকের ক্ষতি হচ্ছে এটা আমরা জানি। এসব ক্ষয়ক্ষতি আমাদের ব্যথিত করে; কিন্তু এর জন্য অনেক মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারি না।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ামাত্র ফেসবুকসহ বন্ধ থাকা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো খুলে দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী তারানা। তিনি বলেন, ফেসবুক বন্ধ রাখা হয়েছে ‘নিরাপত্তার খাতিরে’।

– See more at: www.ittefaq.com.bd

Comments