January 23, 2018 11:47 pm

বরগুনা-পটুয়াখালী-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করছে রোয়ানু

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু বরগুনা, পটুয়াখালী ও চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করছে। আজ শনিবার পৌণে ১২টার দিকে এই ঘূর্ণিঝড়টি ওই এলাকা দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে কয়েকটি উপকূলে জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। ২০-২৫ ফুট উঁচু হয়ে পানি এসে আঘাত করছে। বাতাসের একটানা গতিবেগ ৮০ কিলোমিটার। এসব এলাকার দোকানপাট পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভেসে গেছে। হাতিয়ায় নিঝুম দ্বীপের বেড়িবাধঁ ভেঙে গেছে।
আজ শনিবার সিপিপি এই তথ্য জানিয়েছে।

বরগুনা-পটুয়াখালী-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করছে রোয়ানু

বরগুনা-পটুয়াখালী-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করছে রোয়ানু

এর আগে আবহওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল আজ দুপুর নাগাদ রোয়ানু আঘাত করবে। কিন্তু এর আগেই উপকূলগুলোতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড়টি। সেখানে আগেই ৭ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত দেখানো হয়েছে। সেখানে আশ্রয় কেন্দ্রে অনেককে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ লোক আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেনি। অন্যদিকে পতেঙ্গা সমুদ্রবন্দর উত্তাল হয়ে উঠেছে।

দুপুরের আগে বাংলাদেশ উপকূলের দিকে আরও এগিয়ে এসে পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করছিল ঘূর্ণিঝড়টি।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শনিবার ভোর থেকেই দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঝড়ো হাওয়া বয়। দেশের দক্ষিণাঞ্চল এবং রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি চলছে।

বরগুনা-পটুয়াখালী-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করছে রোয়ানু

বরগুনা-পটুয়াখালী-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করছে রোয়ানু

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আরও পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে এসে সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে কোনো এক সময় বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

শেষরাতে ঘরের উপর গাছ পড়ে ভোলার তজুমদ্দিনে এক নারী ও এক কিশোরের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে পটুয়াখালীর দশমিনায় ঘূর্ণিঝড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ২ জন, বেশকয়েকটি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুরে গাছ চাপায় দুইজন নিহত হয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।

চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে আগের মতোই ৭ নম্বর এবং কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৬ টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ২৫৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ২৩০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

ঘূর্ণিঝড় উপকূল অতিক্রম করার সময় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর জেলা এবং সংলগ্ন দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। সে সময় ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার বেগে বয়ে যেতে পারে ঝড়ো হাওয়া।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। অন্যদিকে অতি বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

Comments