January 22, 2018 12:20 pm

বাংলা কবিতা সমগ্র

হিজল ফুল
-তাজরিয়ান পলি

জলে ভাসা ঝরে যাওয়া হিজল ফুল,
কত কালে কত নদীর কত ঘাট
পেরিয়ে যায়!
কখন ও স্রোতের টানে খুঁজে
পায় কূল।
কূলে এসে ফুল খানা অমনি হঠাৎ
ডুবে যায়।
ডুবে ডুবে ভাসতে শিখে,
ভেসে যায় গান গায়,তরঙ্গে
দোল খায়।
ন ওরোজে ফুলপরী জলপরীরা
সবদিকে,
জলপরী নিয়ে যায়, অচিরেই হিজল
ফুল সাগরে মিশে যায়।
বৃক্ষ ফুল থেকে নদী জল,
নদী কূল থেকে সমুদ্রে চলাচল।
এরূপে মানব জীবন চলে,চলতে চলতে
বাঁধা পেয়ে,
নতুন রূপে উঠে গেয়ে,
এক জীবনের শেষ মিলনের বিশালতা
নিয়ে।

বীরপুরুষ
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

(সকল মায়ের জন্য রইল শুভেচ্ছা)
মনে করো, যেন বিদেশ ঘুরে
মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে।
তুমি যাচ্ছ পালকিতে, মা, চ’ড়ে
দরজা দুটো একটুকু ফাঁক ক’রে,
আমি যাচ্ছি রাঙা ঘোড়ার ‘পরে
টগবগিয়ে তোমার পাশে পাশে।
রাস্তা থেকে ঘোড়ার খুরে
খুরে
রাঙা ধূলোয় মেঘ উড়িয়ে আসে।
সন্ধ্যে হল, সূর্য নামে পাটে,
এলেম যেন জোড়াদিঘির মাঠে।
ধূ ধূ করে যে দিক-পানে চাই,
কোনোখানে জনমানব নাই,
তুমি যেন আপন-মনে তাই
ভয় পেয়েছ-ভাবছ, ‘এলেম কোথা।’
আমি বলছি, ‘ভয় কোরো না মা গো,
ওই দেখা যায় মরা নদীর সোঁতা।’
আমরা কোথায় যাচ্ছি কে তা
জানে-
অন্ধকারে দেখা যায় না ভালো।
তুমি যেন বললে আমায় ডেকে,
‘দিঘির ধারে ওই-যে কিসের আলো!’
এমন সময় ‘হাঁরে রে রে রে রে’
ওই – যে কারা আসতেছে ডাক
ছেড়ে!
তুমি ভয়ে পালকিতে এক কোণে
ঠাকুর-দেবতা স্মরণ করছ মনে,
বেয়ারাগুলো পাশের কাঁটাবনে
আমি যেন তোমায় বলছি ডেকে,
‘আমি আছি, ভয় কেন, মা, করো!’
তুমি বললে, ‘যাস নে খোকা ওরে,’
আমি বলি, ‘দেখো-নাচুপ করে।’
ছুটিয়ে ঘোড়া গেলেম তাদের
মাঝে,
কী ভয়ানক লড়াই হল মা যে
শুনে তোমার গায়ে দেবে কাঁটা।
কত লোক যে পালিয়ে গেল ভয়ে,
কত লোকের মাথা পড়ল কাটা।।
এত লোকের সঙ্গে লড়াই ক’রে,
ভাবছ খোকা গেলই বুঝি মরে।
আমি তখন রক্ত মেখে ঘেমে
বলছি এসে, ‘লড়াই গেছে থেমে,’
তুমি শুনে পালকি থেকে নেমে
চুমো খেয়ে নিচ্ছ আমায় কোলে
বলছ, ‘ভাগ্যে খোকা সঙ্গে ছিল’
কী দুর্দশাই হত তা না হলে!’

“আমার ভিতরে বাহিরে অন্তরে
অন্তরে”
– রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে
অন্তরে,
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে।
ঢেকে রাখে যেমন কুসুম, পাপড়ির
আবডালে ফসলের ঘুম।
তেমনি তোমার নিবিঢ় চলা,
মরমের মূল পথ ধরে।
পুষে রাখে যেমন ঝিনুক,
খোলসের আবরণে মুক্তোর সুখ।
তেমনি তোমার গভীর ছোঁয়া,
ভিতরের নীল বন্দরে।
ভাল আছি ভাল থেকো,
আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো।
দিয়ো তোমার মালাখানি,
বাউলের এই মনটারে।
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে
অন্তরে,
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে……

*জীবনে সুখী হবার ১০টি উপায়ঃ*

জীবনে সুখী হবার ১০টি উপায়ঃ
১) অন্যের কাজে নাক গলাবেন না
২) ক্ষমা করে মনে রাখবেন না
৩) স্বীকৃতির জন্য কামনা করবেন না
৪) হিংসাকে মাটি চাপা দিন
৫) নিজেকে বদলান
৬) যা থেকে পরিত্রান পাবেন
না তা সহ্য করে নিন
৭) সাধ্যাতীত কাজ এড়িয়ে চলুন
৮) সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুন
৯) মনকে শূন্য রাখবেন না
১০) অতীত নিয়ে ভাববেন না
**””হাবিব হাওলাদার তুসার””**

Comments