January 23, 2018 11:35 pm

বান্ধবীর খুশি মানেই আমার খুশি – নূর আলম

নূর আলম সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই লুংগী আলগী দিয়ে পশ্চিম দিকে দৌড় দেয়।দাঁতে এক খাবলা ছালি লাগিয়ে ওয়াস রুমের জানালা দিয়ে একদৃষ্টিতে সে মহিলা হোস্টেলের দিকে তাকিয়ে থাকে।কি কারনে যেন এই ছেলেটা আমাকে ক্যাম্পাসে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে।সবাই চেষ্টা করে পরীক্ষায় ভাল করার আর এই ছেলের একমাত্র লক্ষ্য থাকে আমার থেকে ভালো করার।ছেলেটা আবার আমাকে একই সাথে ভালোবাসে।

প্রতিদিনের চাকরির প্রস্তুতিএকই সাথে কারো কাছ থেকে ঘৃনা আর ভালোবাসা পাওয়া সোজা না।আমি লাকি তাই পাইছি।যাই হোক এই ছেলের নাকি আবার একটা মেয়ে বন্ধু আছে।সেই মেয়ে বন্ধু স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ে।এই স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আবার ঢাকার ধানমন্ডীতে অবস্থিত। এই মেয়ে বন্ধুর ব্যাপারে সে আবার খুব সিরিয়াস। যেহেতু আমাকে সে ঘৃনা করে তাই ফেসবুকে ব্লক করছে আবার যেহেতু ভালোবাসে তাই সকাল বেলা ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করছে “মামা,কাইল আমার বান্ধবীর বার্থডে। কি গিফট দিওন যায়?” আমি ওকে গিফটের ব্যাপারে সাজেশন দিলাম।রাজশাহীর ছেলেরা খুব ভালো হয়। এদের কনভিন্স করা তেমন কোন ব্যাপার না। যাই হোক আমার সাজেশন শুনে সে ক্যাম্পাস থেকে বাসে করে সোনাপুরের উদ্দেশ্যে গিফট কেনার জন্য রওনা হল।…..

গিফট পেয়ে বান্ধবী খুব খুশি হবে।”বান্ধবীর খুশি মানেই আমার খুশি”-এই কথা ভেবে প্রচন্ড হাসিতে ফেটে পড়লো নূরা। হাসতে হাসতে বাস থেকে রাস্তার উপর লুটিয়ে পরলো সে। তারপর কিছুক্ষণ মাটিতে গড়াগড়ি দিলো। তবুও হাসি থামলো না। শেষমেষ বাধ্য হয়ে রাস্তা থেকে একটি ইট হাতে নিয়ে নিজের মুখে ঢুকিয়ে দিলো।মুখে ইট ঢুকানোর কারণে তার হাসি অটোমেটিক বন্ধ হয়ে গেলো। তারপর সে সামনের দিকে হাঁটা শুরু করলো …

হাঁটতে হাঁটতে সোনাপুর চলে আসলো সে। গিফট কেনার জন্য নূর আলম একটি বদনার দোকানের সামনে গিয়ে থামলো। আরএফএল কোম্পানির একটি সোনালী রংয়ের বদনা হাতে নিয়ে দেখতে লাগলো। গিফট হিসাবে বদনা মন্দ নয়। বান্ধবী অনেক খুশি হবে।সে দোকানদারকে ডেকে দাম জিজ্ঞেস করলো। দোকানদার হালায় বদনার দাম না বলে নূরাকে রাস্তার পাশের একটি পাবলিক টয়লেট দেখিয়ে দিলো…
নূরা লক্ষ্য করলো, আশেপাশের সব লোকজন তার দিকে তাকিয়ে ৩৬টা ‍দন্ত বের করে হাসতেছে। ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে সে দোকানদারকে ঝাড়ি মারলো। দোকানদার নূরাকে ফকিন্নীর পোলা বলে গালি দিলো এবং বললো, “হালা ফকিরনির পোলা, তর আব্বায় তরে লুঙ্গি কিনে দেয় নাই? লেংটা হইয়া রাস্তায় নামছস ক্যারে?”

দোকানদারের কথায় অবাক হয়ে নূরা নিচের দিকে তাকালো। ঘটনা সত্যি !! কোমড়ের তলায় কোনো কাপড় নেই। তার মাথায় যেনো আকাশ ভেঙ্গে পরলো। সে বুঝলো, তখন রাস্তায় হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দেওয়ার সময় তার লুঙ্গি খুলে গেছিলো। অথচ হালায় ব্যাপারটা একটুও টের পায় নাই। নিজের অজান্তে সে লুঙ্গি রেখে চলে এসেছে…
…..
রাগে ক্ষোভে দুঃখে বা***দ হয়ে সে সোনালী রংয়ের বদনাটা দিয়ে নিজের মাথায় বাড়ি মারলো। তারপর প্রচন্ড ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরলো নূরা।স্থানীয় লোকজন তাকে পাশ্ববর্তী একটি মেডিকেলে নিয়ে গেলো। ডাক্তার তাকে চেকআপ করে জানালো, তার মাথায় আগে থেকেই একটি টিউমার ছিলো। বদনার আঘাতে টিউমার টি ফেটে গেছে এবং ক্যান্সার হয়ে গেছে। তাকে বাঁচাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। স্থানীয় লোকজনরা তখন যে যার সাধ্যমতো টাকা তুলে নূরার চিকিৎসা করালো।
…….
এভাবেই আমাদের ঐক্যবদ্ধতার কারণে প্রাণ বাঁচে নূরার মতো সমাজের হাজারো অবহেলিত মানুষের। ‌ সবার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় এরকম ছোটখাট কেস সলভ করা কোনো ব্যাপারই না…

Comments