January 23, 2018 8:10 pm

মৃত্যু, মানব জীবনের এক ভয়ানক অভিজ্ঞতার নাম

মৃত্যু, মানব জীবনের এক ভয়ানক অভিজ্ঞতার নাম। কোনো প্রাণীই এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে চায় না। কিন্তু পছন্দ করুক আর নাই করুক প্রত্যেক প্রাণীকেই এই অভিজ্ঞতার স্বাদ লাভ করতে হয়।

মৃত্যু, মানব জীবনের এক ভয়ানক অভিজ্ঞতার নাম

মৃত্যু, মানব জীবনের এক ভয়ানক অভিজ্ঞতার নাম

বিশ্বে প্রতি মিনিটে প্রায় ১০০ মানুষ মারা যায়। কিন্তু মৃত্যুর পর মানুষের শরীরে কী ঘটে? আসলে এটি মূলত বিজ্ঞানের ব্যাখ্যার ব্যাপার এবং সেই ব্যাখ্যায় যা উঠে এসেছে তা মোটেও মানব সম্প্রদায়ের জন্য সুখকর কোনো সংবাদ নয় ।

এসাপ সাইন্স থেকে সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে যাতে দেখানো হয়েছে মৃত্যুর ঠিক পর মুহূর্ত থেকে শরীরে পচন ধরা পর্যন্ত কী কী ঘটে। সহজে বোধগম্য কার্টুনের মাধ্যমে ভিডিওটিতে মৃত্যুর প্রথম কয়েক সেকেন্ডে আমাদের দেহে কী ঘটে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

প্রথম কয়েক ঘণ্টা
মৃত্যুর পর প্রাথমিকভাবে সেকেন্ডের মধ্যে অক্সিজেন দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কের কার্যকলাপ কমতে থাকে।
তারপর নিউরন এবং মস্তিষ্কের হরমোন যা শরীরের বিভিন্ন কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে তার কার্যক্ষমতা স্তিমিত হয়ে যায়, যদিও কিছু হরমোন মৃত্যুর কয়েক মিনিট পরেও কাজ করতে পারে।

এই কয়েক মিনিটের মধ্যেই অবশিষ্ট সঞ্চিত এটিপি, যা মানুষের শরীরে শক্তি প্রদান করে তা ব্যবহৃত হয়ে যায় এবং পেশিগুলো আস্তে আস্তে শিথিল হয়ে যায়। এর ফলে একটি শক্তিশালী সম্ভাবনা আছে যে মৃত ব্যক্তিটি এই সময়টাতে নিজ থেকেই পায়খানা-প্রস্রাব করতে পারে।

মৃতদেহগুলো সেময় ফ্যাকাশে হয়ে যায় বিশেষ করে হালকা চামড়া যুক্ত মানুষের দেহ। রক্ত প্রবাহের ঘাটতির কারণে এটা ঘটে এবং মৃত্যুর ১৫-২০ মিনিট পর এটা দেখা যায়। এরপর হৃদকম্পন এবং রক্তের স্বাভাবিক চলাচলও থেমে যায়। তাই তখন মাধ্যাকর্ষণ শরীরকে নিচের দিকে টেনে নিয়ে যায়, যার ফলে শরীরের সব রক্ত সর্বনিম্ন এক বিন্দুতে এসে জমা হয়। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পরে জমাট বাধা রক্তের কারণে শরীর লাল এবং রক্তবর্ণ ধারণ করে বিবর্ণ হয়ে যায়।
মৃত্যুর ১২ ঘণ্টা পরে শরীর সম্পূর্ণ বিবর্ণ হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াটি যা ‘লিভর মরটিস’ নামে পরিচিত তা ফরেনসিক তদন্তকারীদের মৃত্যুর আনুমানিক সময় নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। মৃত্যুর পর তিন থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে আর একটি লক্ষণ শরীরে দেখা দেয় যা ‘আড়ষ্টতা’ নামে পরিচিত।

শক্তির অভাবে সেলুলার অরগানেলসগুলো ধসা হয়ে যায় এবং পেশী কোষ দিয়ে ক্যালসিয়াম বের হয়ে যায় যা প্রোটিনকে ধরে রাখত এবং পেশীর সঙ্কোচন ঘটাতো। পরবর্তী ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পেশীগুলো শক্ত হয়ে শরীর পুরোপুরি স্থবির হয়ে যায়।

মৃত্যুর ১ দিন পর
অন্যান্য প্রসেস যখন চলতে থাকে (এটা রাসায়নিকভাবে বা অন্যথায় সংরক্ষিত না করা হলে) এরই মধ্যে ধীরে ধীরে শরীরে পচন ধরতে শুরু করে। শরীরের কোষের মধ্যে সঠিক রক্ত প্রবাহ না হওয়ার কারণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং pH টিস্যুর বৃদ্ধি ঘটে।

তারপর, অবাত ব্যাকটেরিয়া (যাদের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন দরকার হয় না) গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল নালীর মাধ্যমে ঢুকে পেটের অঙ্গগুলো খেতে শুরু করে। এটি একটি দুর্গন্ধযুক্ত প্রক্রিয়া, যা পচন হিসাবে পরিচিত এবং নোংরা অ্যামিনো অ্যাসিড তখন অতি ক্ষুদ্র পরজীবী কীটবিশেষ, মৃত জীব বিটল সহ পোকামাকড় আকর্ষণ করে।

পরজীবী কীটগুলো তারপর পচা টিস্যুতে ডিম পাড়তে শুরু করে যা এক দিনের মধ্যে নতুন কীট জন্ম দেয়। শুককীট, পোকাগুলো তারপর শরীর হাড্ডিসার হওয়া পর্যন্ত টিস্যু খেতে থাকে।

প্রথম কয়েক সপ্তাহ
পোকাগুলো মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শরীরের টিস্যুর ৬০ শতাংশ গ্রাস করতে পারে এবং তার ফলে শরীর পচা তরল এবং গ্যাস মুক্ত হয়। মৃত্যুর ২০-৫০ দিনের মধ্যে জৈবিক গাঁজন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায় এবং পোকা শুককীট, প্রোটোজোয়া এবং ছত্রাক আকর্ষিত হয়। এই প্রক্রিয়াটি ‘শুষ্ক ক্ষয়’ হিসাবে পরিচিত হয় এবং এটি সম্পন্ন হতে এক বছরও লাগতে পারে।

মৃত্যুর এক বছর বা তারপরেও
‘শুষ্ক ক্ষয়’ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে শরীরের যে অংশই অবশিষ্ট থাকুক না কেন পরবর্তী বছরগুলোতে উদ্ভিদ ও প্রাণী তা খেয়ে ফেলে। শরীরের সকল উপাদান যদি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত রাখা হয় তাহলে শরীরের প্রতিটি অংশই এক সময় ভেঙ্গে যাবে। তারপর অণুগুলো প্রকৃতিতে পুনর্ব্যবহৃত হবে।

Comments