January 23, 2018 8:10 pm

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী:

 রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী:

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী:

১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের মিটামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল হামিদ। তাঁর পিতার নাম হাজী মোঃ তৈয়েবউদ্দিন এবং মাতার নাম তমিজা খাতুন। তিনি কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাশ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে এলএলবি পাশ করেন। ১৯৫৯ সালে ছাত্রলীগে যোগ দেয়ার মাধ্যমে আবদুল হামিদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। গুরুদয়াল কলেজ থেকে তিনি ১৯৬৩ সালে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬৫ সালে ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬১ সালে কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। এই সময় তিনি আউববিরোধী আন্দোলনের জন্য কারাগারে যান। ১৯৬৪ সালে আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৬-৬৭ সালে তিনি ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত হন অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ। তিনি কিশোগঞ্জ জেলা বার এসোসিয়েশান থেকে ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে মোট ৫বার সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে আবদুল হামিদ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর (২০১৩) তাঁকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতের মেঘালয়ে মুক্তিযোদ্ধা রিক্রুটিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি মুজিব বাহিনীর সাব সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। এছাড়া তিনি ভারতের মেঘালয়ে মুক্তিযোদ্ধা ইয়োথ রিসেপশান ক্যাম্পের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সপরিবারে নিহত হবার পর ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত আবদুল হামিদ কারাগারে বন্দী ছিলেন। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ, ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ, ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সপ্তম সংসদে ১৯৯৬ সালের ১৩ জুলাই থেকে ২০০১ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের ১১ জুলাই থেকে ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনা করেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে ১লা নভেম্বর ২০০১ থেকে ২৭ অক্টোবর ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর নবম সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর দ্বিতীয় বারের মতো ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য ও স্পিকার হিসেবে বিভিন্ন সভা, সেমিনার ও সিম্পুজিয়ামে অংশগ্রহন করেন। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, কানাডা, রাশিয়া, চিন, ভারত, সৌদি-আরব, কুয়েত, মিশর, ইরান, সিংগাপুর, দুবাই, আবুধাবী, থাইল্যান্ড, মরক্কো, মঙ্গেলিয়া, জিব্রাল্টার, দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, সুইজারল্যান্ড, বারবাডোস, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং।

রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের অসুস্থতার কারণে গত ১১ মার্চ ২০১৩ সালে স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ পান অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব। গতকাল নবম জাতীয় সংসদের ১৭তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। বিগত ৩ এপ্রিল ২০১৩ সালে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে চলতি ১৭তম সংসদ অধিবেশন আহবান করেন। আর চলতি এই সংসদ অধিবেশনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
ব্যক্তিগত জীবনে আবদুল হামিদ তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক। আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমীর আজীবন সদস্য। এছাড়া তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কিশোরগঞ্জ রাইফেলস ক্লাব ও কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সম্মানিত সদস্য।

নতুন রাষ্টপতি হিসেবে অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট, পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপন্থা কোন দিকে যাবে, সেসব বিষয় নিয়ে কুঁড়িতম রাষ্টপতি হিসেবে অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদকে বেশ কঠিন সময় মোকাবেলা করতে হবে। বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু রাজনৈতিক ধারা প্রবর্তণ করা, দেশের সংকটকালে দলমত নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক দলের এক টেবিলে বসা, দেশের স্বার্থে সকলকে একত্রিত করা, এবং দলীয় সংকীর্ণতার উর্ধ্বে একটি গঠনমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গঠন করার প্রতিই আবদুল হামিদকে সবচেয়ে বেশি মনযোগী হতে হবে আমি মনে করি।

একুশ শতকের নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যে আবদুল হামিদকে অনেক কঠিন, সুস্থ, নিরপেক্ষ এবং যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আগামীর সেই নতুন চ্যালেঞ্জগুলো নতুন রাষ্টপতি সুনিরপেক্ষভাবে এবং দলীয় সংকীর্নতার উর্ধ্বে উঠৈ, কাউকে খুশি করার পরিবর্তে দেশের স্বার্থে করবেন বলেই আমরা প্রত্যাশা করতে পারি। আমরা নতুন রাষ্ট্রপতিকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেখতে চাই। দেখতে চাই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নতুন রাষ্ট্রপতি’র নের্তৃত্বে সফলভাবে বাস্তবায়ন হোক। আবারো নতুন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে স্বাগতম ও শুভেচ্ছা জানাই।

Comments