January 22, 2018 12:22 pm

শুভ্রার মনে পরে যায় পুরোনো সেইসব দিনের কথা (ভালবাসার কথা)

শুভ্রা নামের মেয়েটা আজ অনেক সুন্দর করে সেজেছে । নীল শাড়িতে কপালে লাল টিপ, দুই চোখে টানা টানা করে কাজল দেওয়া । মাথার চুলগুলো পেছনে সুন্দর করে খোপায় বাধা । ঠোঁটে মিষ্টি লাল লিপস্টিক । হাতে নীল কাচের চুড়ি। রীতিমত স্বর্গ থেকে নেমে আসা পরীর মত লাগছে ওকে । আর লাগবেই বা না কেনো ? আজ যে এই মেয়েটার বিয়ে।

শুভ্রার মনে পরে যায় পুরোনো সেইসব দিনের কথা

শুভ্রার মনে পরে যায় পুরোনো সেইসব দিনের কথা

আর বিয়ের দিন প্রত্যেকটা মেয়েই সুন্দর করে সাজে । আর এই সুন্দর করে সাজার পেছনে উদ্দেশ্য থাকে শুধুমাত্র একজন কে দেখানোর জন্য । আর শুভ্রা যার জন্য সেজেছে সেই ছেলেটির নাম হচ্ছে রাহাত । হ্যা, রাহাতের সাথেই আজ ওর বিয়ে । অবশ্য বিয়ে উপলক্ষে বাড়িটা একদম ই সাজানো হয়নি । কারন বিয়েটা পারিবারিক ভাবে হচ্ছে না । শুভ্রা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করতে যাচ্ছে । হ্যা, শুভ্রা অনেক ভেবে চিন্তেই এই ডিসিশন টা নিয়েছে । রাহাত তাকে খুব ভালবাসে । কিন্তু শুভ্রার বাবা মা কখনই তাদের দুজনের এই সম্পর্ক মেনে নিবেন না । কিন্তু শুভ্রা রাহাতকে ছাড়া অন্য
কারো কথা ভাবতেও পারে না ।

তাই দুজন প্ল্যান অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পালিয়ে কাজি অফিসে বিয়ে করার । সকাল এগারোটায় মগবাজার কাজী অফিসের সামনে থাকবে রাহাত । ঘড়ি দেখল শুভ্রা । ন”টা বেজে গেছে । উহু দেরি করা চলবে না । শুভ কাজে দেরি করতে নেই । বেলা ১১টা । কাজী অফিসের ভেতরে বসে আছে শুভ্রা । পাশে রাহাত । বিয়েতে সাক্ষী হিসেবে এসেছে রাহাতের কিছু বন্ধু । কিছুক্ষণের মাঝেই শেষ হয়ে গেলো সকল আনুষ্ঠানিকতা । পার হয়ে গেলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ । এখন থেকে শুভ্রা রাহাতের বিবাহিত স্ত্রী । কোথায় যাবো এখন ? জানতে চাইলো শুভ্রা কোথাও না সোনা, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবো এখন আমরা ফাজলামি কোরো না । বউকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবা !!! হুম ঘুরবো একটু সিরিয়াস হই আমরা ? প্লিজ ? ওকে, সিরিয়াস । চল আমরা এই যান্ত্রিক শহর ছেড়ে একটু দূরে যাই, যেখানে শুধু তুমি আর আমি । কোথায় এটা ? টাঙ্গাইল । আমার খালার বাড়ি । খালার কাছে গিয়ে আগে সব খুলে বলতে হবে । পরে উনিই সব ম্যানেজ করবেন । আমাদের একমাত্র আশ্রয় এখন উনি । রাহাত ! পারবেন তো উনি ? সত্যি ?

হুম ১০০% শুভ্রা আর রাহাত খালার বাড়িতে পৌঁছে গেছে । শুভ্রা বসে আছে একটি ঘরে । বাসায় কেউ নেই । বাসায় কাউকে না পেয়ে রাহাত ফোন দিল তার খালাকে । খালা জানালেন তিনি এলাকার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গেছেন । ফিরতে রাত হবে । রাহাতের কাছে অতিরিক্ত চাবি ছিল । সেই চাবি দিয়েই রাহাতকে বাসায় ঢুকে বিশ্রাম নিতে বললেন তিনি । বাসায় এসে বিস্তারিত কথা হবে । রাহাত, আমার কেন জানি ভয় করছে,” শুভ্রা বলল । …. ভয় !! কিসের ভয় !! অবাক হয়ে জানতে চাইল রাহাত । “জানি না কিসের ভয়, কিন্তু কেমন জানি লাগছে…” “আমি পাশে থাকার পর ও তোমার ভয় লাগে !” কিছুটা আহত কণ্ঠে বলল রাহাত । “না না, আসলে সবকিছু প্রথম প্রথম তো । তাই এমনটা লাগছে হয়তবা ।” শুভ্রা হাল্কা গলায় বলল । ” আচ্ছা, শোন, তুমি কোন চিন্তা করো না, আমি আর তুমি দুজনে মিলে সব সামলে নিব । কি পারবো তো আমরা ? হু ? ” হু । ওকে তুমি বস, আমি তোমার জন্য চা বানিয়ে আনছি । আচ্ছা । শুভ্রা আর রাহাত এই মুহূর্তে মুখোমুখি বসে চা খাচ্ছে । রাহাত মুখে হাসি । এই ছেলেটার হাসিটা খুব অদ্ভুত । দেখলেই মায়া লাগে । বুকের কোন জায়গায় যেনো খচ করে বাধে । এই হাসি দেখেই ওর প্রেমে পড়েছিল সে ।

আহা !! সেই দিনগুলো !!! শুভ্রার মনে পরে যায় পুরোনো সেইসব দিনের কথা । আস্তে আস্তে একটা ঘোরের মাঝে চলে যায় সে । নিঃশ্বাস গভীর হয়ে আসে । তারপর…. তারপর শুধুই নিস্তব্ধতা…. # ভাগফল : শুভ্রার যখন ঘুম ভাঙ্গে তখন রাহাতকে আর খুজে পায় না সে । নিজেকে আবিষ্কার করে ছোট একটা টিনের ঘরে । সামনে দুজন অপরিচিত মহিলা বসে আছে । নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে শুভ্রা লক্ষ্য করে গায়ে অসংখ্য কামড়ের দাগ, কোন কাপড় নেই । সারা শরীর জুড়ে তীব্র ব্যাথা । ঠোঁটগুলো প্রায় রক্তাক্ত হয়ে আছে । তাদের মুখ থেকেই নোংরা ভাবে জানতে পারে রাহাত তাকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে পতিতালয়ে । এখন থেকে বাকি জীবন এই পতিতালয়েই তাকে জীবন কাটাতে হবে । যে ভালবাসার মানুষটির হাত ধরে সে ঘর ছেড়েছিল বাবা মার ভালবাসাকে উপেক্ষা করে, সেই মানুষটাই তাকে বিক্রি করে দিয়েছে । বিক্রি করে দিয়েছে পতিতালয়ে, একজন পতিতা হিসেবে ।

# ভাগশেষ : সকাল বেলা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছে নিশিতা । আজ সে ভার্সিটির ক্লাস ফাকি দিয়ে লং ড্রাইভে যাবে । রাহাতের সাথে আজ তার ফার্স্ট ডেট । ভেতরে ভেতরে উত্তেজনায় ফেটে যাচ্ছে সে । ছটফট করছে । মনের ভেতর কত কিছুই উকি দিচ্ছে । নিজেকে শান্ত রাখতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে । অথচ আয়নার সামনে একাকি দাঁড়িয়ে মুচকি হাসা এই মেয়েটির বিন্দুমাত্র ধারনা নেই ভবিষ্যতে তার সাথে কি হতে যাচ্ছে ।লেখা- সামিউল ওয়াকিল তমাল

Comments