January 23, 2018 8:11 pm

ডিএসসিসি’র হেভিওয়ে্ট দুর্নীতিবাজ় মাসে ৫০ লাখ টাকার তেল চুরি

বহাল তবিয়তে আছে ডিএসসিসি হেভিওয়ে্ট দুর্নীতিবাজ় কর্মকর্তা খন্দকার মিরাতুল ইসলাম পরিবহন শাখার দায়িত্ব পাওয়ার পর গুটী কয়েক নেতা নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডীকেট গড়ে তুলেছেন ।এই সিন্ডীকেট বছরে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানা যায় ।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নভেম্বর ২০১১সালে দুইভাগে বিভক্ত হয় ।বিভক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত কত টাকার বিল পরিশোধ করা হয় । ভাগ হওয়ার সময় দুইটি ফাইলে বড় ধরনের অনিয়ম হয় । প্রথমটি গোমতি ফিলিং স্টেশন ১৬.০২.৬৫০.২০০২ তাং ১১.০২.০২ ইং, দ্বিতীয়টি পৌর ফিলিং স্টেশন- ১৬.০২.২২০.২০১০ তাং ০২.১২.১০ ইং ফাইল দুটি বর্তমানে গায়েব বলে জানা যায় ।হিসাব শাখার কর্মকর্তা জানান আমাদের কাছে এই ফাইল নেই ।
মাসে ৫০ লাখ টাকার তেল চুরিসাবেক প্রশাসক খলিলুর রহমান ও সাবেক প্রনিক সুলতানুল ইসলামকে স্মার্টফোন উপহার দেন বলে সুত্র জানায় । উপহার দিয়েই তেল চুরির মহো্ৎসব চলে।সংশ্লিষ্টদের দাবি পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা লুটপাট না করলেই এ খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে।২০০৭ সালে নগর ভবনে সেনাবাহিনী কর্তৃ্ক টাস্কফোর্স বসার পরই এখরচ অর্ধেকে নেমে এসেছিল ।যা দুই বছর একই রকম ছিল ।
আরও জ়ানা যায় বিনা টেন্ডারে বছ্রের্র পর বছর ধরে একই স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়া এবং এক ট্রিপের স্থলে তিন ট্রিপ দেখা্নো নিয়মিত হয়ে গেছে ।জানা যায় গারভেজ এ ৬৫ -৭০ লিটার তেল দেয়া হয় । অথচ এক বা দুই ট্রিপের বেশি ট্রিপ দেওয়া হয় না।দুই ট্রিপে সর্বোচ্চ ২৫-৩০ লিটার তেল খরচ হয় বলে জানা যায়।বাকি তেল টোকেনের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয় ।প্রতিদিন এই সিন্ডীকেট দেড় থেকে দুই লাখ টাকার টোকেন ক্রয় করে বলে সুত্র জানায় ।
খন্দকার মিলাতুল ইসলাম কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৮১ সালে । এরপর ১৯৮৫ সালে খুব কম সময়েই তিনি পরিবহন শাখার ব্যাবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব নেন ।২০০৫ সালে প্রধান সমাজকল্যান ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তার
পদ ও নিজের দখলে নেন । সবশেষে এই হেভিওয়েট কর্মকর্তা মহা ব্যাবস্থাপক( পরিবহন)পদটিও (চং দাং) হিসেবে নিয়ে নেন।একসাথ তিনি কর্পো্রেশনের তিনটি পদ দখল করে আছেন ।
বিভিন্ন জায়গায় বলে থাকেন আমি যোগ্য বিধায় কর্তৃপক্ষ আমাকে দায়িত্ত দিয়েছেন ।সাবেক উর্ধতন কর্মকর্তাদের মাসোয়ারা দিয়ে মেনেজ করে ঐ পদ গুলো দখল করে নেন । এ পদ গুলো নিজের আওতায় নেওয়ার জন্য বড় অংকের লেন দেন হয় বলে সুত্র জানায় । তিনি দাবি করে বলেন কর্পোরেশনের আমিই একমাত্র যোগ্য ব্যাক্তি তা ,না হলে কর্তৃপক্ষ কি আমাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন নাকি ।এ ছাড়াও আরও জ়ানা যায় তিনি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে পদক সংগ্রহ করেন । তার মধ্যে ‘মাটির মানুষ সম্মামনা ২০১৩’ ২৫ হাজার টাকা ও ‘মাদার তেরেসা স্বর্ন পদক ২০১৪’ ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায় ।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরো জ়া্নান একদিকে তিনি ৩ টি পদ আয়ত্তে রেখেছেন সাবেক প্রশাসক ও প্রনিকদের মাসোহারার বিনিময়ে । দুইটি ফাইল গায়েব করে রেখেছেন যাতে বড়
ধরনের অনিয়ম হয়েছে । আরেক দিকে সমাজ কল্যাণ সেবার নামে অক্ষ্যত সংগঠ্ন থেকে পদক নিচ্ছেন ।।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন তিনি যদি আসলেই সৎ ও যোগ্য ব্যাক্তি হতেন তাহলে তো সরকার ই তাকে উপযুক্ত পুরস্কার দিত । বেশ কিছু পদক সংগ্রহ করলেও তার শোকেসে এখন দুইটি ক্রেস্ট শোভা পাছে।
পরিবহন শাখার দায়িত্ব নেওয়ার পর জ্বালানী তেলের কারচুপি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় । মিলাতুল ইসলাম তার পছন্দমত যাত্রাবাড়ীর গোমতি ফিলিং স্টেশন থেকে কর্পোরেশনের পুরো জ়্বালানী তেল সংগ্রহ করেন ।
ময়লার কাজে নিয়োজ়িত ট্রেলারের জন্য প্রতিদিন ১০০ লিটার তেল দেওয়া হয়।আবার অনেক সময় বসে থাকা জানবাহনের নামেও জ্বালানী ইস্যু করা হয় । ট্রেইলার গুলোর বাবদ যে ১০০ লিটার তেল ইস্য করা হয় তার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০-৬০ লিটার খরচ হয় । বাকি ৪০ লিটার তেল টোকেনের মাধ্যমে গোমতি ফিলিং স্টেশনের মালিক মাইনুল ইসলাম ও মেনেজার বাবুলের কাছে জমা দিয়ে নগদ তুলে নেন ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উর্ধতন এক কর্মকর্তা বলেন, যানবাহনের তেল চুরির ঘটনা কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ মহল পর্যন্ত অবগত।বছরের পর বছর ধরে এমন অবস্থা চলতে থাকলেও কেওই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়না।
ডিসিসি ভাগ হওয়ার সাড়ে ৩ বছর পর ও মিলাতুল ইসলামের ব্যাক্তিগত আগ্রহে গোমতি ফিলিং স্টেশন ও পৌর ফিলিং স্টেশন থেকেই জ্বালানি সংগ্রহ করছেন । ভাগ হওয়ার আগ পর্যন্ত নভেম্বর ২০১১সালে পৌর ও
গোমতি ফিলিং স্টেশনের ফাইল দুইটিতে কত টাকা পরিশোধ উক্ত ফাইল দুইটি যার নং ১৬.০২.৬৫০.২০০২ তাং ১১.১২.০২ ইং গোমতি ফিলিং স্টেশন । অপরটি – ১৬.০২.২২০.২০১০ তাং ০২.০২.২০১০ ইং পৌর
ফিলিং স্টেশন ।উক্ত ফাইল দুটি্র হিসাব খতিয়ে দেখা দরকার বলে সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তারা মনে করেন। ফাইল দুটির কোন হদিস নেই বলেও জানা যায় ।ফাইল দুটিতে ভয়াবহ দুনীতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট শাখা হতে
ফাইল দুটি গায়েব করা হয় ।
সমাজ কল্যান ও সাংস্কৃতিক বিভাগের টাকা নয় ছয় ঃ
সমাজ কল্যান ও সাংস্কৃতিক বিভাগাধীন ১৭টি সংগীত ও নৃ্ত্যকলা শিক্ষা কেন্দ্রের অবস্থাও একি রকমের। জানা যায় এই স্কুলের উপদেশটা হিসেবে এক সময় সৈ্যদ আব্দুলহাদী, সুবীরনন্দী, ঝুনুর মত শিল্পিদের রাখা হয়েছিল।
অজ্ঞাত কারনে এখন আর তাদের ডাকা হয় না। কাগজে কলমে তাদের দুই বছরের কোর্সের কথা বলা হলেও ১৭ টি স্কুল থেকে আজ পর্যন্ত কোন শিক্ষার্থীদের একটি ব্যাচ শেষ করে বের হয়েছে বলে জানা যায়নি।
২০০৪ সালে স্কুল গুলো চালু হলেও আজ় পর্যন্ত কনো সিলেবাস তৈরি হয়নি। নেই কোন প্লান। যন্ত্রপাতি মেরামত, মেন্টেনেন্স,কোন কিছুতেই বরাদ্ধ নেই। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলেরে দশা থেকে চলে যায় ।স্কুলের প্রিন্সিপাল ও প্রধান উপদেস্টা হিসেবে আছেন শিল্পী আব্দুল জাব্বার । তিনি প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা করে সম্মানী পান অথচ এ বেপারে কারো কোন নজর নেই । তার দেখাও মেলা ভার ।এই ১৭ টি স্কুলের প্রতিটিতে ২ জন গানের,
২ জন তবলা, ২জন নৃ্ত্যের শিক্ষকের প্রত্যেককেই প্রতিমাসে ৭ হাজার টাকা দেয়া হয় । একটি কেন্দ্রে প্রতিমাসে ৪২ হাজার টাকা খরচ হয় । সে হিসেবে ১৭ টি স্কুলের উপদেস্টা ও শিক্ষকদের কত টাকা পরিশোধ
করা হয়? এখান থেকেও সংগীত শিক্ষার নামে হাতিয়ে নেয়া হয় বড় অঙ্কের টাকা।শিক্ষার্থী দিয়ে নাচ শিখানো হয় বলে ও অভিযোগ করেন ৪ অঞ্চলের এক অভিবাবক । তিনি আরো অভি্যোগ করেন ঠিকমত ক্লাস নেওয়া হয় না অথচ ছয়জ়ন শিক্ষক দেখিয়ে প্রতিমাসে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। কমিউনিটি সেন্টার গুলোর অবস্থা আরো খা্রাপ ।কমিউনিটি সেন্টার গুলোর লোকজ়নকে বেতন ভাতা পরিশোধ করা হয় ঠিক ই অথচ এগুলো থেকে সিটি কর্পোরেশনের কোন আয় নেই।আয়ের চেয়ে ব্যায় বেশি কমিউনিটি সেন্টার ও সংগীত শিক্ষা কেন্দ্রের। বছরে কোটি টাকা ব্যয় করা হয় শুধু সংগীত শিক্ষা কেন্দ্র গুলো পিছনে আসল উদ্দ্যেশ্য কি এই সমাজ কল্যান শাখার ? যার কোন সিলেবাস ও সার্টিফিকেট দেয়ার ক্ষ্মতা নেই ।
ডিএসসিসির সমাজ কল্যান ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মিরাতুল ইসলাম বলেন, স্কুলের সিলেবাসের বিষয়টি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। যেখানে বছরে কোটি টাকা খরচ হয় সেখানে তিনি বলেন বাজেট স্বল্পতার কারনে অনেক কিছু সমাধান করা যায় না।

Comments