January 22, 2018 12:23 pm

একটি অনন্যরকম গল্প – 1st Part

“একটু ফাইলটা দেখে দিবেন?
.
কন্ঠটা শুনে কেমন জানি লাগল। যদিও কন্ঠটা পরিচিত। আমি আমার কাজেই ব্যাস্ত। কেননা এই সুরেলা কন্ঠটা কখনো আমার টেবিলে এসে কথা বলে না। হয়ত মনের ভুল।
.
“এই যে শুনছেন? ফাইলটা একটু দেখবেন প্লিজ?
.
love photoআমি ভুল শুনছি না তো? তাকিয়েই অবাক হলাম। যে জেরিন আমার টেবিলে কখনো কোন ফাইল নিয়ে আসে না। পিয়নকে দিয়েই ফাইল আমার টেবিলে পাঠায়। সেই জেরিন মেয়েটা আমার টেবিলের সামনে।
.
“একি দাড়িয়ে আছেন কেন বসুন? “না ঠিক আছে। আপনি জলদি ফাইলটা দেখে দিন।
.
কথাটা খুব ইতস্ত করে বললো। তবে কথাটায় একটু ছটফটের ঘ্রান পেলাম। ফাইলটা টেবিলে রেখে হাতের আঙুল গুলা ফুটাচ্ছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। আশ্চর্য ব্যাপার এখন তো ঘামার কথা না। অফিসে তো এসি চলছে। তাছাড়া ও এমন করছে কেন?
.
“আপনি বসেন আর তা না হলে আমি ফাইল দেখবো না।
.
কথাটা কাজে লেগেছে। যেই বললাম অমনি আস্তে করে চেয়ারটায় বসলো। অফিসের কোন ফাইল কমপ্লিট করে আমার কাছে আনা হয়। আমি সাক্ষর করে দিলে ফাইল স্যারের দরজায় পৌছাবে এর আগে নয়।
.
ফাইলটা দেখতে লাগলাম। একটু অবাক হলাম। অবাক হওয়ারি কথা ফাইলটায় গতকালকেই সাক্ষর করে পিয়নকে দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। জেরিন কি আমার সাক্ষরটা দেখি নি? নাকি সব কিছু
দেখেও….
.
“সুবন সাহেব এক গ্লাস পানি হবে? “পানি?
.
আমি কিছুক্ষন চুপ করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকলাম। ওর বিশাল হ্যান্ডব্যাগে তো একটা পানির বোতল সব সময় থাকে। আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না। জেরিন কি আমার কাছে পানি খাওয়ার জন্য আসছে? ফাইলটা কি একটা অজুহাত?
.
আমি এক গ্লাস পানি দিলাম। জেরিন ডগ ডগ করে তাড়াহুড়া ভাবে পানি খেয়ে নিল।
.
“কোন সমস্যা? আপনি এই ভাবে ঘামছেন কেন? “না কিছু হয় নি। “আমি ফাইলটায় গতকালকেই সাক্ষর করে দিয়েছি। “কোথায় দেখি দেখি। আরে হ্যাঁ তাই তো।
.
জেরিনের চেহাড়ায় একটু লজ্জা মিশ্রিত আভা দেখলাম। সাধারণত মেয়েরা লজ্জা পেলে যা করে জেরিনও সেটা করল। মাথা নিচু করে ঠোটের মধ্যে কামড় দিল। আর বামহাতে চুল গুলো কানে গুজতে
লাগল। তারপর আস্তে করে ফাইলটা হাতে নিয়ে জেরিন চলে গেল। আমিও আর কিছু বললাম না। তবে মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন বার বার নক করতে লাগল জেরিন কি কোন ঝামেলায়
পড়েছে? সাধারণত মেয়েরা ঝামেলায় পড়লে এই রকম আচরণ করে। আমি আবার কাজে মনোযোগ দিলাম। কিন্তু কেন যেন মনে কৌতহলী জাগতে লাগল আমি কি কিছু জিজ্ঞেস করব? না থাক কিছু জিজ্ঞেস করার দরকার নেই যা ভাব এই মেয়ের।
.
যেদিন জেরিন অফিসে জয়েন করল সেদিনই এই মেয়েটাকে দেখে এক অদ্ভুত ভাল লাগা কাজ শুরু করল মনের ভিতর। অফিসের সবার চোখ ওর দিকে ছিল। আমারো ব্যাতিক্রম হলো না। ভাবলাম মেয়েটার সাথে পরিচয় হই। সাথে একটা ফুল নিয়ে গেলে মন্দ হয় না।
.
“নতুন জয়েন করার জন্য অভিনন্দন। এই ফুলটা আপনার জন্য। আমি সুবন। আপনি?
.
ও কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থাকল। কি যেন ভাবল তারপর বলল “আমি উম্মে জেরিন” তবে আমার ফুলটা নিল না। বরং বলল…
.
“ফুল আমার পছন্দ না। তারপরও আমার জন্য ফুল এনেছেন আমি খুশি। স্যরি ফুলটা নিতে পারলাম না।
.
আরে এই মেয়ে বলে কি? মেয়েরা ফুলকে কত পছন্দ করে আর এই মেয়ে বলে ফুলকে পছন্দ করে না। কেন ফুল কি তোমার শত্রু? আমি একটু আহত হলাম। আহত
হলাম মানে মনে ব্যাথা পেলাম। আমার ফুলটা গ্রহন করল না। আরে ফাযিল মেয়ে ফুলকে পছন্দ করো না সেটা তোমার ব্যাপার একটা মানুষ ফুল দিয়েছে সেটা অন্তত গ্রহন করতে
পারতা। এই ভাবে আচরণ করার মানে হয়? তাও আবার অফিসের সবার সামনে। একটা হাসি দিয়ে বললাম…
.
“ফুলকে পছন্দ করেন না হা হা হা। মজা করছেন আমার সাথে তাই না? আসলে ফুলটা আপনার জন্য আনি নি। ফুলটা মীরার জন্য এনেছি। ভাবলাম আপনি নতুন আসছেন আপনাকে ফুলটা দেই। যাই হোক যার জন্য এনেছি তাকেই ফুলটা দিয়ে দেই।
.
জেরিনের পাশের টেবিলেই মীরার টেবিল। ওর টেবিলের সামনে গিয়ে বললাম…
.
“মীরা এটা তোমার জন্য। “আমার জন্য? “হ্যাঁ তোমার জন্য। বিশ্বাস হচ্ছে না? “আপনি তো কখনো আমায় ফুল দেন নি। “কখনো দেই নি তো কি হয়েছে। এবার রোজ ফুল দিব তোমায়। কোন সমস্যা? নাকি তোমারো ফুল পছন্দ নয়। “না কি বলেন? ফুল পছন্দ করব না কেন? অবশ্যই ফুল পছন্দ করি। আমি খুব খুশি হয়েছি আপনি আমার জন্য ফুল এনেছেন। “আসলে জানো ফুল হলো একটা পবিত্র জিনিসের মত। এটা সৌন্দর্যের প্রতীক। যারা ফুলকে পছন্দ করে না। তাদের মন কখনো সুন্দর হয় না। শুধু সুন্দর চেহাড়া হলে তাকে সুন্দর বলে না, একটা সুন্দর মন
থাকা দরকার। “আপনি কি বলছেন আমি কিছুই বুঝি নি। “কিছুই বুঝতে হবে না তুমি কাজ করো।
.
এই বলে চলে আসার সময় জেরিনের দিকে তাকালাম। দেখলাম রাগ রাগ ভাব নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে আমাকে কাচাঁ খেয়ে ফেলবে।
.
“মীরা এত অবাক হওয়ার কিছু নেই। এইভাবে তাকিয়ে থেকো না। কাজে মনোযোগী হও।
.
আসলে কথাটা জেরিনকে বলেছি। মেয়ে তুমি যে স্কুলে পড়তে ওই স্কুলের হ্যাড মাষ্টার আমি। পাশ থেকে রাফি ভাই আস্তে করে বলল.. “ছক্কা তো মারলেন পুরাই গ্যালারির বাহিরে।
.
এই মেয়ে ঝামেলায় পড়ুক আমার কি? আমি কিছু জিজ্ঞেস করব না। ঠিক কিছুক্ষন পর জেরিন আবার আমার টেবিলের সামনে আসে।
.
“কিছু বলবেন? “না মানে বলতে চেয়েছিলাম আমি আজ…
.
কথাটা ও পুরো পুরি শেষ করল না।
.
“আপনি আজ কি?
“আমি আজ নিজ হাতে রান্না করে এনেছি। আজ দুপুরে আমার সাথে লাঞ্চ করবেন।
.
আমি হা করে তাকিয়ে থাকলাম। এই মেয়ের এত পরিবর্তন কিভাবে হলো?
.
“দুঃখিত আমি তো আজ মীরার সাথে লাঞ্চ করব। আমি মীরাকে কথা দিয়ে দিয়েছি।
.
জেরিনের গাল মুখ রাগে গড়গড় করছে বুঝতে পারলাম। না জানি কি বলে এখন। যদিও কথাটা মিথ্যে মীরার সাথে লাঞ্চের বিষয় নিয়ে কোন
কথা হয় নি। সত্যি কথা কি, ভাব ওয়ালি মেয়েদের সাথে ভাব নিতে হয়।
.
“আমার সাথে লাঞ্চ করবেন কেন ? করবেন তো মীরার সঙ্গে। কি পেয়েছেন আপনি হু? আপনি আমার সাথে এমন আচরণ করেন কেন? নেক্সট
টাইম থেকে যদি মীরার সাথে কথা বলতে দেখি খবর আছে আপনার। আর আমিও দেখে নিব কি করে আজকে মীরার সাথে লাঞ্চ করেন।
.
আরে এই মেয়ে কি বলে এইসব? আমি কার সাথে কথা বলব, কারসাথে চলব, কার সাথে খাব সেটা আমার ব্যাপার তোমার এত গা জ্বলে কেন?
……………2nd Part

Comments